ভিক্ষা নয় আমরা অংশীদারিত্ব চাই, ব্রিগেড মঞ্চ থেকে বার্তা আব্বাসের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়ে গিয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে পারেনি বাম কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে বাম কংগ্রেসের জোট কিন্তু এখনো ঠিকঠাকভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আর তারই মধ্যে এবারে তিনটি দল একসাথে সম্মিলিতভাবে করলো জোটের প্রথম ব্রিগেড সমাবেশ।

এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতারা, সিপিএম নেতা এবং আই এস এফ এর প্রধান আব্বাস সিদ্দিকী। তিনটি দল মিলে রবিবারের ব্রিগেডের মেগা শোয় শামিল হয়েছিল। এটা নির্বাচনের আগে বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধী সবথেকে বড় জনসভা বলে জানা যাচ্ছে।

সেখানকার প্রতিটি নেতাদের গলায় ছিল একটি বড় জনসভার প্রতিফলন। কিন্তু তার মাঝেই সংযুক্ত মোর্চায় ঐক্যে তাল কেটে গেল। আব্বাসের বক্তব্যে উঠে এলো অসহিষ্ণুতার সুর।

পছন্দমত আসন সংখ্যা গ্রহণ করে তিনি বামফ্রন্টকে প্রশংসা করলেন কিন্তু কড়া বার্তা দিলেন কংগ্রেসকে। তাদের দুজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই চলে এলো প্রকাশ্যে এবং তা কারও নজর এড়ালো না।

তিনি বললেন ভিক্ষা চাইনা অংশীদারিত্ব চাই।যদি কেউ বন্ধুভাবে আসতে চায় তাহলে সমর্থন করবো। এটুকু কথাতেই তিনি তার মতামত স্পষ্ট করে দিলেন।

যাদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বললেন তারাও কিন্তু পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলেন। রবিবার ক্রিকেটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বার্তা ঘোষণা করে দিলেন আব্বাস সিদ্দিকী।

আব্বাসের এই মন্তব্যে তিনি কাঠগড়ায় তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী কে। সিপিএম এর সঙ্গে আসন রফা হয়ে গেলেও, মালদা এবং মুর্শিদাবাদে একটি আসনও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে ছাড়তে নারাজ কংগ্রেস। আর সেই নিয়ে শুরু হলো তাদের তুমুল বাদানুবাদ।

ব্রিগেড সমাবেশ কিছুক্ষণ হয়ে যাবার পরে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন আব্বাস সিদ্দিকী। সেখানে সেই সময় বক্তব্য রাখছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। আব্বাস মঞ্চে আসা মাত্রই তৎক্ষণাৎ আব্বাস সিদ্দিকীর ভক্তরা তাকে ভাইজান আব্বাস বলে সম্বোধন করেন।

মোহাম্মদ সেলিম তার সাথে কথাবার্তা বলেন এবং তাকে বক্তব্য রাখার অনুরোধ করেন। সেই সময় বক্তব্য মাঝ পথে ফেলে রেখেই মঞ্চ থেকে নেমে পড়েন অধীর চৌধুরী। তখন যে কোনোভাবে হোক বুঝিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং মহম্মদ সেলিম থাকে আবার বক্তব্য রাখতে পাঠান।

সেই সময় কোন ভাবে মিটে গেলেও, একথা একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর মধ্যে জোটের জট কিন্তু এখনও পর্যন্ত খুব একটা কাটতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here