চুড়ি বিক্রি করে পিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে ডেপুটি কালেক্টর হলেন এক অসহায় মায়ের কন্যা

0
55

ওমেনস এম্পাওয়ার্মেন্ট বলে একটা কথা রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ঘটানোর কাজ যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সেদিন থেকে আর অবলা নয় নারীরা। পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব কিছুতেই তারা যেমন অংশগ্রহণ করতে পারে তেমনি এগিয়ে যেতে বাধা বিপত্তিকে ঠিক টপকে যান নারীরা।

মহারাষ্ট্রের নান্দের জেলার বাসিন্দা তেমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। এই মহিলার নাম ওয়াসিমা শেখ। একেবারেই সাধারণ ঘরের মেয়ে হয়ে ডেপুটি কালেক্টর হওয়ার এই পুরো যাত্রাপথ কখনোই কাঁটামুক্ত ছিল না।

পরিবারের অবস্থা একেবারেই সচ্ছল ছিল না। সূত্রের খবর, তার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন। অন্যদিকে, তার মা সংসার চালানোর জন্য চুড়ি বিক্রি করতেন। ছোট থেকেই আর্থিক অনটনের মধ্যো দিয়ে বড় হয়েছেন ওয়াসিমা শেখ। কিন্তু নিজের দৃঢ় সংকল্প আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জায়গা দখল করে নিয়েছিলেন তিনি।

ওয়াসিমার বাড়ির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তার মা চুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতে বাধ্য হতেন। অন্য দিকে তার ছোট ভাই রিকশা চালাত। তার ভাই স্নাতক শেষ করার পর একটি কোম্পানিতে কাজ শুরু করে। সেই থেকে সে দিদির জন্য পড়াশোনার খরচ যোগাত।

গ্রামের টাউন কাউন্সিল স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার পর ওয়াসিমা ব্লকের একটি হাই স্কুল থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে। আঠারো বছর বয়স হতে না হতেই ওয়াসিমার বিয়ে দেওয়া হয় শেখ হায়দার নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে। সেই সময় তিনি মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনিই ওয়াসিমাকে পড়াশোনার জন্য সহায়তা করেন। সংবাদপত্রের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলি পড়তে পড়তে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দেন ওয়াসিমা। তিনি বিক্রয় পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন।

প্রথম পরীক্ষা মনের মত না হওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার একই পরীক্ষা তে বসেন ওয়াসিমা শেখ। ২০২০ সালে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার সাথে সাথেই তিনি মহারাষ্ট্র মহিলা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। এভাবেই ওয়াসিমা শেখের জীবন কাহিনী সকল যুবসমাজের অনুপ্রেরণা। নিরন্তন চেষ্টা আরো দৃঢ় মনোভাব একজন মানুষকে তার সাফল্যের দিকে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here