মুদির দোকান সামলে, মাঠে ধান কেটেও NEE পরিক্ষায় পাশ করলেন এই দুই পড়ুয়া

0
150

আধুনিক যুগে বিনোদনের আরেক নাম নেট দুনিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া। এই নেট দুনিয়া বর্তমানে আমাদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই আমরা বর্তমানে খেলাধুলা থেকে শুরু করে খবরাখবর নিমিষেই উপভোগ করতে পারি।

এমনকি এই নেট মাধ্যমের ফলে আমরা রানু মন্ডল, চাঁদমনি হেমব্রম এবং বিপাশা দাস সহ আরো বহু প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বকে আমাদের মাঝে পেয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান আমাদের জীবনে অনস্বীকার্য। তাহলে আজকের আলোচনা শুরু করা যাক। নিজের স্বপ্নপূরণের কোন নির্দিষ্ট সময় হয় না।

বেঙ্গালুরু এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সেই প্রবাদবাক্যই সত্যি করে দেখালেন। সমাজের বেশিরভাগ মানুষই যখন মোটামুটিভাবে ৩০ বছর বয়সে পৌঁছেই কোনও একটা নির্দিষ্ট দিকে স্থায়ীভাবে কাজ করার কথা ভাবে, সেখানে আজ আমরা এমনই এক ব্যক্তির কথা বলব,

আজ আমরা আমাদের এই নিবন্ধে এমন একজন ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে, বলবো যিনি আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সুযোগ সুবিধার অভাব সত্বেও জীবনে এগিয়ে গেছে। আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, কারও বাবা রাজমিস্ত্রি, কারও বাবা মুদির দোকানে কর্মী।

আর্থিক অনটনে ধুঁকতে থাকা পরিবারের পাশাপাশি তাঁদের মত আরও অনেক পিছিয়ে পড়া মানুষকে আলো দেখাতে চলেছে দুই পড়ুয়া। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিটে নজরকাড়া ফল পেয়েছে, বীরভূমের দুই তরুণ তরুণী।

প্রথম জন মুরারই ২ নম্বর ব্লকের ন-নগর গ্রামের আব্দুল হামিদ শেখ, অন্যজন খোয়রাশোল ব্লকের ছোড়া গ্রামের আলো মণ্ডল। আব্দুলের বাবা জিয়ারুল শেখ পেশায় রাজমিস্ত্রি। আগে কলকাতায় কাজ করতে যেতেন। এখন এলাকাতেই কাজ করে সংসার চালান।

মাঝে মধ্যে আব্দুলকেও বাবার সঙ্গে কাজে হাত লাগাতে হয়েছে। তবে পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়নি কোনদিন। তার ফলও পেয়েছে হাতেনাতে। আব্দুল মিত্রপুর অঞ্চল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিকে ৬৬৪ নম্বর পেয়ে সেরা হয়েছিল। এরপর হাওড়ার খলোদপুর হাইমাদ্রসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক ৪৭২ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

সেখান থেকে হাওড়া সাঁতরাগাছি আলামিন মিশনে থেকে কোচিং নিয়ে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটে ৭২০ মধ্যে ৬৪৫ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় ভাবে ৪৮৯৩ স্থানে রয়েছে সে। তার শতকরা স্কোর ৯৯.৬৭। অন্যদিকে আলো মণ্ডল ৭২০ মধ্যে ৬২৮ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় ভাবে ৮৯৭২ স্থানে রয়েছে। তার শতকরা স্কোর ৯৯.৪১।

আলোর বাবা নগেন্দ্র চন্দ্র মণ্ডল মুদির দোকানের কর্মী। কখনো কখনো মাঠে ধান কাটার কাজও করতে হয় আলোকে। মাঝে মধ্যে আলোকে বাবার খবর নিয়েও যেতে হয়। হারভাঙা পরিশ্রমের পরও আলো মাধ্যমিকে গ্রামের স্কুলে ৬৪২ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছিল।

এরপর দুবরাজপুর সারদেশ্বরী বিদ্যামন্দির ফর গার্লস থেকে ৪৮৬ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়। বাবা নগেন্দ্রবাবু বলেন, “সমান্য টাকা বেতনে মেয়েকে পড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক ছয় হাজার টাকা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে।

অবশ্য শিক্ষকরা কোন পারিশ্রমিক নেননি। তাদের উৎসাহেই মেয়ে সাফল্য পেয়েছে। খুব ভালো লাগছে”। আব্দুল বলেন, “আমি নিউরোলজিস্ট হতে চাই। কারণ ছোট থেকেই মাথা নিয়ে আমার পড়তে ভালো লাগতো। তাছাড়া আমাদের আত্মীয়দের অনেকেই নিউরো সমস্যায় ভুগছে।

তাদের কথা চিন্তা করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি”। চিকিৎসক হয়ে ব্যবসা নয়, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা করতে চায় আব্দুল ও আলোরা। স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে আইপিএস পাস করল এক পিয়নের মেয়ে আইপিএস অফিসার হয়েছেন।

আমরা কথা বলছি 2018 সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার ডক্টর বিশাখাকে নিয়ে। যিনি তাঁর দারিদ্রতাকে সাফল্যের ধারে কাছে আসতে দেয়নি। বিশাখা নাসিকের বাসিন্দা। বিশাখার বাবার নাম অশোক ভাদানে, পেশায় তিনি একজন স্কুলের পিয়ন ছিলেন।

বিশাখারা দুই বোন এবং এক ভাই। পরিবারের দারিদ্রতা এতটাই ছিল যে বাবার উপার্জনে পরিবারের খরচ চলতো না তাই তাদের মা একটি দোকান খুলেছিলেন। তাদের বাবা-মা সর্বদা চেয়েছিলেন তাদের ছেলেমেয়েরা যাতে পড়াশোনা করে নিজের জীবনকে সফল করে তোলে।

এই কারণে আয় কম হওয়া সত্বেও তার সন্তানদের পড়াশোনায় কোন কমতি রাখেননি। এই সময়ে তার মনে আই পি এস পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা জাগে। এরপর তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেন। বিশাখা জানান তিনি ছোটো থেকেই জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছেন।

তার এই পরিশ্রমে পরিবারের প্রত্যেকেই সমানভাবে সহায়তা করেছেন তাকে। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। বিশাখার মামা তখন আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। বিশাখার আরও জানান তার মামা না শুধু আর্থিক ভাবে তাকে সাহায্য করেছেন। ভারতীয় সেনায় য়োগ দ…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here