অহংকারই ডেকে আনে পতন! ভাঙা বাড়িতে বাসি ভাত ফুটিয়ে দিন চলছে রানু মন্ডলের

0
126

বর্তমান যুগে দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে স্মার্ট ফোন ইন্টারনেট পরিষেবা। একজন মানুষের সাথে গোটা দুনিয়ার যোগসুত্র স্থাপন করছে এই স্মার্টফোন। বর্তমানে দিনের পর দিন উন্নতি হচ্ছে বিজ্ঞানের। যতই বিজ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে ততোই আসছে নতুন নতুন ধরনের প্রযুক্তি। আর চলতি দশকে প্রযুক্তির সেরা আবিষ্কার স্মার্টফোন।

তার ওপর গত বছর থেকে করোনা সংক্রমনের কারণে লকডাউন হওয়ার জন্য প্রত্যেক মানুষ খুব বেশি পরিমাণে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে স্মার্টফোনের উপর। এখন অফিস কাছারি থেকে শুরু করে পড়াশোনা করা অব্দি সব কাজই কমবেশি স্মার্টফোনের মাধ্যমে করতে হয়। স্মার্টফোনের দুনিয়ায় দেশের এক প্রান্ত থেকে দুনিয়ার যোগসুত্র স্থাপন করে সোশ্যাল মিডিয়া। আট থেকে আশি প্রত্যেকের কাছেই এখন রয়েছে এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট।

সোশ্যাল মিডিয়া ভারী অদ্ভুত জায়গা। এখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বা ছবি দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে কোন মানুষ যেকোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি পোস্ট করতে পারে। তা যদি নেটিজেনদের পছন্দ হয় তাহলে তারা প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়।

আজকালকার দিনে প্রায় প্রত্যেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। মাঝে মাঝে দেখা যায় কেউ গান বা নাচ বা অভিনয় করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও পোস্ট করে। তাদের সেই প্রতিভা নেটিজেনদের পছন্দ হলে তারা প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করে এবং ভিডিওটি দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে কেউ রাতারাতি স্টার অব্দি হয়ে যেতে পারে।

আসলে সোশ্যাল মিডিয়া কখনোই বিচার করে না যে কার কত অর্থের সম্ভার আছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে টিকে থাকতে হলে দরকার শুধু প্রতিভার। প্রতিভা থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার কাছে ভগবান হয়ে উঠতে পারে। এখন এমনও অনেক উদাহরণ আছে যে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে কেউ রাতারাতি স্টার হয়ে গেছে। এই ঘটনার প্রকৃষ্ট উদাহরণ রানাঘাটের রানু মন্ডল বা সাঁওতাল কন্যা চাঁদমনি হেমব্রম। দুজনের ক্ষেত্রেই লাকি চার্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ও নেটিজেনদের ভালোবাসা।

যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন তারা কমবেশি প্রত্যেকেই রানাঘাটের রানু মন্ডলের নাম অবশ্যই শুনেছেন। চরম দারিদ্রতায় জর্জরিত রানু মন্ডল রানাঘাট স্টেশনে ভিক্ষা করে তার ক্ষুধা নিবারণ করত। কিন্তু হঠাৎই একদিন এক ব্যক্তি খেয়াল করেন যে স্টেশনের ওই ভিখারিনী অসম্ভব সুন্দর গলায় গান গাইতে পারে। তার গলা যেন লতা মঙ্গেশকরের কার্বন কপি।

ওই ব্যক্তি মুঠো ফোনের ক্যামেরায় রানু মন্ডল এর একটি গান করার ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেয়। রানু মন্ডল এর গানের গলা নেটিজেনদের এতই পছন্দ হয় যে তারা ভিডিওতে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার এর বন্যা বইয়ে দেয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বলিউড মহল অব্দি। তার অসম্ভব সুন্দর গানের গলায় ফিদা হয়ে রানু মন্ডলের ডাক পড়ে বলিউডের সিনেমার গান গাওয়ার জন্য।

রানাঘাটের স্টেশন থেকে সরাসরি মুম্বাই স্বপ্নপুরীতে পৌঁছে যান রানু মন্ডল। হঠাৎ করেই বলিউডে আত্মপ্রকাশ হয় এক প্রতিভার। প্রচুর ফ্যান ফলোইং নিয়ে নিজের স্বপ্নের মত জীবন কাটাচ্ছিলেন রানু মন্ডল। তবে ভালো কন্ঠের অন্তরালে হঠাৎ মানুষের এতো ভালোবাসা পেয়ে অহংকার বেড়ে যায় রানু মন্ডলের। তিনি যত তাড়াতাড়ি সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রেন্ডে এসেছিলেন তত তাড়াতাড়ি তার পতন হয়।

এখন হয়তো অনেকেই খবর রাখেনা যে একসময়ের সোশ্যাল মিডিয়ার সেনসেশন এখন কোথায়। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে তার পুরনো রানাঘাটের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। ভগ্নপ্রায় বাড়িতে দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা গায়িকার। বাসি ভাত খেতে হচ্ছে তাকে। তার এই অবস্থার কথা তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন ভগবানের দান তিনি মেনে নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here