Breaking News

সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছেন মা, কিন্তু বাবা এভাবেই তার ছেলেকে কোলে নিয়ে চালাচ্ছেন জীবনের লড়াই

দুনিয়ায় এমন কিছু কাহিনী থাকে যেগুলি হয়তো আমরা কখনো জানতেও পারিনা। দুনিয়ায় অনেক মানুষ এমন আছেন যারা নিয়মিত আমাদের মনে আলাদা রকমের সম্মান অর্জন করেন। সে শুধু যে নিজের কাজের মাধ্যমে তা না, বরং আচার ব্যবহার, নিজের কথা বলা এমনকি নিজের দায়িত্ববোধ,

সবকিছুর জন্যই অনেক মানুষ এমন আছেন যারা, এখনো দুনিয়ার কাছে একটা শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকেন। আমরা মাঝে মধ্যে এরকম অনেক মানুষকে সামনে দেখতে পাই, যাদের কাজ বা তাদের দায়িত্ববোধ আমাদের অনেক কিছু শেখায়।

একজন শিশুর বড় হয়ে ওঠার পেছনে যেমন মায়ের অবদান থাকে, তেমনি কিন্তু বাবার অবদানও থাকে। মা এবং বাবা দুজনে মিলে তাদের কোলের শিশুকে আসতে আসতে বড় করে তোলে। তবে অনেক মানুষ এমন থাকেন, যারা নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে গিয়ে নিজেদের বাচ্চাকে ভুলে যায়।

বাচ্চা কিভাবে বড় হচ্ছে এসব নিয়ে কোনো মাথাব্যথা তাদের থাকেনা। কিন্তু যাদের প্রথম চিন্তা করার কথা, তারাই কোনোভাবে চিন্তা করছেনা। এরম মা এবং বাবা যদি কারো থাকে, তাহলে সেই শিশুর ছোটবেলাটা খুব একটা ভালো কাটেনা।

বাচ্চাটা কিভাবে বড় হচ্ছে না হচ্ছে সেই নিয়ে মা-বাবার মধ্যে কোন চিন্তা ভাবনাই নেই। এরকম শিশু ছোটবেলা সত্যি খুব দুঃখের কাটে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু মা-বাবা রয়েছে যারা কিন্তু নিজের সন্তানকে সব থেকে বেশি ভালোবাসে।

তারা সন্তানের সমস্ত দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং যখন প্রয়োজন তারা কিন্তু তাদের সন্তানের সব থেকে ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। আমরা মাঝেমধ্যেই সিঙ্গেল মাদার দের কথা শুনে থাকি। স্বামী মারা যাবার পর অথবা স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবার পরে নিজের বাচ্চাকে নিজে মানুষ করা কোন মায়ের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন কাজ।

কিন্তু, যেমন সিঙ্গেল মাদার রয়েছেন তেমন কিন্তু সিঙ্গেল ফাদার থাকেন, যাদের কথা হয়তো খুব একটা বেশি পড়া হয়না বা বলা হয়না। এরকম বহু পুরুষ মানুষ আছেন যারা নিজের সন্তানকে সবথেকে বেশি ভালোবাসেন, হয়তো নিজের থেকেও বেশি।

স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অথবা স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও তারা নিজের সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটাতে পারেন। এরকম বহু সিঙ্গেল ফাদার পৃথিবীতে রয়েছেন। আজকে এমনি একজনের কথা আপনাদের জানাব, যিনি বাবা হিসেবেই নয় বরং মা হিসেবেও নিজের সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রিয় আইএএস অফিসার অবিনাশ শরণ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি এই মানুষটির কথা বলেছেন। জানা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তিকে স্ত্রী তার সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। তারপর তিনি একেবারে একা হয়ে যান।

এই অবস্থায় অনেকেই দ্বিতীয় বার বিয়ে করার কথা ভাবেন, আবার অনেকেই নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে গিয়ে নিজের সন্তানকে ভুলে যান। কিন্তু এই ব্যক্তিটি একেবারেই অন্যরকম। তিনি কিন্তু নিজের সন্তানদের দায়িত্ব কখনো ছেড়ে যেতে পারেননি।

বরং আরো দায়িত্বশীল হয়ে নিজেই বাবা এবং মা উভয় ভূমিকা পালন করে নিজের একেবারে ছোট্ট ছেলেকে বড় করছেন তিনি। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার সন্তানদের সমস্ত দায়িত্ব তার উপর এসে পড়ে। অনেকে হয়তো এইসময় ভেঙে পড়তেন, নিজের কাজে ব্যস্ত হওয়ার জন্য, বাচ্চাদের খেয়াল নিতেন না।

অনেকে আবার বাচ্চার দেখাশোনা করার জন্য কোন একজনকে রাখতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে তিনি তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের সন্তানকে কোলে নিয়েই তিনি কলেজের কাজ চালিয়ে যান।

নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে তার যত্ন রাখেন, পাশাপাশি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত পড়ান। এর জন্য কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা তাকে খুব সম্মান করে। একজন ভালো বাবা এবং একজন ভালো শিক্ষক মানুষটি। এনার গল্প সত্যিই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।

তিনি কিন্তু নিজে কখনো হাল ছাড়েননি বরং অন্য পদক্ষেপ অবলম্বন করে নিজের সন্তানকে বড় করছেন তিনি। পাশাপাশি তাকে যত্নে রাখেন এবং তার মায়ের ভূমিকাও তিনি নিজেই পালন করছেন। তাকে কখনো অবহেলা করেন না তিনি।পাশাপাশি তিনি নিজের শিক্ষকদের দায়িত্ব অত্যন্ত যত্নের সাথে পালন করে আসছেন বহু বছর ধরে।

এরকম একজন মানুষের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখা উচিত। সমাজের জন্য এরকম একজন শিক্ষক এবং এরকম একজন বাবা অত্যন্ত প্রয়োজন, যারা শুধুমাত্র নিজের সন্তানকে পড়াশোনা শেখায় না বরং কিভাবে দুনিয়ায় চলতে হয়, কিভাবে নিজের পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হয় সেটাও শেখায়।

Check Also

খেলা হবে গানে তুমুল নাচলেন পবন্দীপ অরুনিতা ,ঝড়ের গতিতে ভাইরাল ভিডিও

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আমরা ভাইরাল হতে দেখি। সারাদিনের বেশ খানিকটা সময় আমরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *